Home Archives

লন্ডন বিডি টিভি

প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬,

‘পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন’—জেলেনস্কির দাবি

শেয়ার করুন:

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন। তাকে থামাতে তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে সরকারি দপ্তরে BBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হবে ইউক্রেনের বিজয়ের মাধ্যমে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী কৌশলগত অঞ্চল ছেড়ে দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। জেলেনস্কির ভাষ্য, “আমি বিশ্বাস করি পুতিন ইতোমধ্যেই এটি শুরু করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা ভূখণ্ড দখল করতে পারবেন এবং তাকে কীভাবে থামানো যাবে… রাশিয়া বিশ্বে ভিন্ন জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায়।”

রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের আরও কিছু অংশ দাবি করছে। এ বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, এটি শুধু জমি নয়, বরং লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ ত্যাগ করার শামিল। “আমি এটাকে শুধু জমি হিসেবে দেখি না। এটি আমাদের অবস্থান দুর্বল করা, সেখানে বসবাসরত শত-সহস্র মানুষকে পরিত্যাগ করা। এই ‘পিছু হটা’ আমাদের সমাজকে বিভক্ত করবে।”

তিনি আরও বলেন, পুতিন সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারেন, তবে কয়েক বছরের মধ্যে আবারও হামলা চালাতে পারেন। “তিনি এখন বিরতি চান… কিন্তু পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে আবার শুরু করতে পারেন।”

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসতে হবে। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্প মনে করেন ভূখণ্ডগত ছাড়ই যুদ্ধবিরতির চাবিকাঠি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি। আমরা হারব না।” ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি পেতে হলে তা কংগ্রেসের অনুমোদনসহ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “প্রেসিডেন্ট বদলায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান থাকে,”—যোগ করেন তিনি।

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর জারি হওয়া সামরিক আইনের কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচন স্থগিত হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ শেষের শর্ত হিসেবে নির্বাচন হলে তিনি তাতে রাজি। তবে তা হতে হবে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায়ে। তিনি নিজে আবার প্রার্থী হবেন কি না—এ প্রশ্নে বলেন, “আমি লড়তেও পারি, নাও পারি।”

জেলেনস্কি আরও জানান, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা আকাশ প্রতিরক্ষা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইউক্রেন এখনো নিজস্বভাবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।